শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উর্গবাদী সংগঠন দেশে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: ওবায়দুল কাদের ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি শীর্ষ ২৫ ব্যাংকে: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে: হাইকোর্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে থেকে কূটনীতিকের সংখ্যা কমাল  দেশ চলছে শতভাগ ব্যক্তিতন্ত্রের ওপর: গয়েশ্বর চন্দ্র ‘টেক্সট ফর ইউ’ শিরোনামে হলিউড সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘বিশ্বসুন্দরী’  প্রভাস তিন সিনেমায় নিচ্ছেন ৩০০ কোটি! রাজধানীতে ভিপি নূরের নেতৃত্বে মশাল মিছিল বার্সা উড়ছে মেসিকে ছাড়াই  প্রথম জয় বেক্সিমকো ঢাকার  নিরাময়ের বদলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে চলে নির্যাতন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ বাংলাদেশের প্রতি কি.মি. রাস্তা নির্মাণে সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকা যাচ্ছে তিন সংকটে শনিবার থেকে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হচ্ছে করোনা: বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার জলবায়ু পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কর্ম-পরিকল্পনার আহ্বান সায়মা ওয়াজেদের বিশ্ব এখন করোনার ভ্যাকসিন যুগে  মানসম্মত জীবনের সব আয়োজনে আধুনিক শহর এখন ভাসানচর

কেমিক্যালে কঙ্কাল করা হতো কবর থেকে লাশ তুলে

মুক্তকণ্ঠ২৪ ডেস্ক:

‘প্রথমে কবর থেকে লাশ তুলেই গভীর অরণ্য বা পাহাড়ি জনপদে নিয়ে যায়, পরে কেমিক্যালের মাধ্যমে লাশ পঁচিয়ে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে মানবদেহের পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল করা হতো।’ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার এমনটাই জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে।

তিনি জানান, রোববার দুপুরে আটক বাপ্পির কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কঙ্কাল চোর চক্রের সদস্যরা জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে নগরীর আরকে মিশন রোডের একটি বাসা থেকে ১২টি মাথার খুলি ও দুই বস্তা কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। কোতোয়ালি পুলিশ এ সময় দুই কনটেইনার তরল ও তিন প্যাকেট গুঁড়া কেমিক্যালসহ বাপ্পি (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে।

ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, চক্রের সদস্যরা লাশ তুলে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কঙ্কাল সংগ্রহ করে চড়ামূল্যে নির্ধারিত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে বাপ্পিকে আটক করি। এ সময় ১২টি মাথার খুলি ও দুই বস্তা হাড়গোড় জব্দ করি। বাসাটি ভাড়া নিয়ে কঙ্কাল সরবরাহ করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, কঙ্কাল চোর চক্রের সদস্যরা জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। কবর খোঁড়াখুঁড়ির সঙ্গে জড়িতদের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির খবর চলে যায় চক্রের সদস্যদের কাছে। তারা প্রথমে কবর থেকে মরদেহ তুলেই গভীর অরণ্য বা পাহাড়ি জনপদে নিয়ে যায়। পরে কেমিক্যালের মাধ্যমে লাশ পচিয়ে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে মানবদেহের পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল সংগ্রহ করে। পরে তুলে দেয়া হয় পাচারকারীদের হাতে। এসব কঙ্কাল চলে যায় পাশের দেশ নেপাল ও ভারতের মেডিকেল শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও চিকিৎসকদের কাছে।

প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল ২০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কঙ্কালগুলো পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। আটক বাপ্পী নগরীর কালীবাড়ি কবরস্থান এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

ময়মনসিংহ জেলার গহীন অরণ্য ও পাহাড়ি জনপদ মানবদেহের কঙ্কাল প্রক্রিয়াকরণের নিরাপদ স্থানে পরিণত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই জেলার বিভিন্ন স্থানে কবর থেকে লাশ চুরির খবর পাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে কঙ্কাল পাচারকারী চক্রটি সক্রিয় বলে জানা গেছে। কঙ্কাল চোর চক্রের সঙ্গে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কতিপয় নেশাখোর ও মাদকাসক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন গোরস্তানের কবর খোঁড়াখুঁড়ির সঙ্গে জড়িত।

এ ছাড়া ময়মনসিংহে গহিন অরণ্য, পাহাড়ি জনপদ ও নির্জন স্থান বেশি থাকায় এসব স্থানকে কঙ্কাল প্রক্রিয়াকরণের নিরাপদ স্থান বলে মনে করে পাচারকারীরা।

চক্রের সদস্যরা সামান্য টাকার লোভে লাশ কবর থেকে তুলে কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত সম্পন্ন করে কঙ্কাল পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছিল।

ওসি জানান, কালীবাড়ি গোরস্তানের কবর খোঁড়াখুঁড়ির জড়িত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া এমন আরও সাতজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, আটক ব্যক্তির জবানবন্দি অনুযায়ী কঙ্কাল চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। তবে কবর থেকে লাশ তুলে কঙ্কাল চুরি বন্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এক চিকিৎসক জানান, শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এ কঙ্কালের মূল্য অনেক।

কবর থেকে লাশ তোলার বিনিময়ে একজন নেশাখোর বা মাদকাসক্ত ব্যক্তি পায় মাত্র দুই থেকে ৫ হাজার টাকা, যা পরে ২০-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো আলাদা করে বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে হালুয়াঘাট, ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা ও ভালুকা অঞ্চলের গহিন অরণ্য, পাহাড়ি জনপদ ও নির্জন স্থান বেশি থাকায় সেখানে কঙ্কাল চুরির ঘটনা বেশি হয়।

 

 

 

মুক্তকন্ঠ২৪

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *