শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উর্গবাদী সংগঠন দেশে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: ওবায়দুল কাদের ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি শীর্ষ ২৫ ব্যাংকে: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে: হাইকোর্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে থেকে কূটনীতিকের সংখ্যা কমাল  দেশ চলছে শতভাগ ব্যক্তিতন্ত্রের ওপর: গয়েশ্বর চন্দ্র ‘টেক্সট ফর ইউ’ শিরোনামে হলিউড সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘বিশ্বসুন্দরী’  প্রভাস তিন সিনেমায় নিচ্ছেন ৩০০ কোটি! রাজধানীতে ভিপি নূরের নেতৃত্বে মশাল মিছিল বার্সা উড়ছে মেসিকে ছাড়াই  প্রথম জয় বেক্সিমকো ঢাকার  নিরাময়ের বদলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে চলে নির্যাতন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ বাংলাদেশের প্রতি কি.মি. রাস্তা নির্মাণে সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকা যাচ্ছে তিন সংকটে শনিবার থেকে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হচ্ছে করোনা: বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার জলবায়ু পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কর্ম-পরিকল্পনার আহ্বান সায়মা ওয়াজেদের বিশ্ব এখন করোনার ভ্যাকসিন যুগে  মানসম্মত জীবনের সব আয়োজনে আধুনিক শহর এখন ভাসানচর

করোনা: ঘরবন্দি জীবনে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে 

মুক্তকণ্ঠ২৪ ডেস্ক:

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে ঘরবন্দি জীবনে মানসিক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সরকারি হিসেবে, মহামারির আগের তুলনায় এখন মাসে প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার রোগী বেশী আসছে পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও ঢাকার জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে।

 

চিকিৎসকরা বলছেন, ব্যবসায় ধস, চাকরি হারানো কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যুর সময় কাছে থাকতে না পারার বেদনা থেকে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।

 

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানালেন, করোনাকালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন ৪ হাজার ৭৪৭ জন রোগী। অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭০ এ। একই অবস্থা পাবনা মানসিক হাসপাতালেরও।

 

চিকিৎসকরা জানান, করোনাকালে জীবিকা হারিয়েছেন অনেকেই। সেই সঙ্গে সংক্রমিত প্রিয়জনের পাশে থাকতে না পারা কিংবা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন অনেকে।

 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোস্তফা মিলন বলেন, ‘এরকম দু-একজন রোগী আমরা পেয়েছি যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছিল পরে আর ওই বিষয় থেকে বের হতে পারেনি। অনেকের আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মা করোনায় মারা গেছেন, কিন্তু দাফন-কাফন করতে যেতে পারেনি। এর ফলে নিজেদের মধ্যে অপরাধ বোধ সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে তারা বিষন্নতায় চলে গেছে।’

 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন বলেন, ‘কারও আর্থিক সমস্যা, কেউ আবার জব হারিয়েছে। অন্যদিকে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে কি হবে সেটা একটা আতঙ্ক। আবার কেউ প্যানিক ডিসঅর্ডার নিয়ে এসেছেন। আবার অনেকেই আছেন যারা প্রবাস থেকে চাকরি হারিয়ে এসেছেন এবং পরবর্তিতে তাদের ফিরে যাওয়া নিয়ে চিন্তা তৈরি হয়েছে।’

 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণে যেমন নতুন রোগী বেড়েছে তেমনি পুরাতন রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।’

 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘করোনাকালে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে আমাকে এভাবে যে করোনা আক্রান্ত হলেই যে খারপ কিছু হয়ে যাবে এমন কিছু না।’

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেহেতু বৈশ্বিক এই মহামারি থেকে সহসাই এই বিশ্ব মুক্তি পাচ্ছে না, সেহেতু এ নিয়ে খুব বেশি আতঙ্কিত বা ভয় না পেয়ে সকলকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শতভাগ মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। আর এটি করতে পারলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়ে যাবে মানসিক শক্তি।

 

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারিতে পরিবর্তিত জীবনে অভ্যস্ত হওয়া কঠিন। তাই মানসিক সুস্থতা অটুট রাখার চেষ্টা করতে হবে সবাইকে।

 

 

 

মুক্তকন্ঠ২৪

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *