মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তি উন্নয়নের হাতিয়ার, তাই অনুকরণের পরিবর্তে উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে: সজীব ওয়াজেদ সুইস রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উর্গবাদী সংগঠন দেশে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: ওবায়দুল কাদের ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি শীর্ষ ২৫ ব্যাংকে: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে: হাইকোর্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে থেকে কূটনীতিকের সংখ্যা কমাল  দেশ চলছে শতভাগ ব্যক্তিতন্ত্রের ওপর: গয়েশ্বর চন্দ্র ‘টেক্সট ফর ইউ’ শিরোনামে হলিউড সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘বিশ্বসুন্দরী’  প্রভাস তিন সিনেমায় নিচ্ছেন ৩০০ কোটি! রাজধানীতে ভিপি নূরের নেতৃত্বে মশাল মিছিল বার্সা উড়ছে মেসিকে ছাড়াই  প্রথম জয় বেক্সিমকো ঢাকার  নিরাময়ের বদলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে চলে নির্যাতন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ বাংলাদেশের প্রতি কি.মি. রাস্তা নির্মাণে সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকা যাচ্ছে তিন সংকটে শনিবার থেকে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হচ্ছে করোনা: বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার

চলতি বছর জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

মুক্তকণ্ঠ২৪ ডেস্ক:

 

স্বাধীন হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার ‘বাস্কেট কেস’ বা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। যেন সমার্থক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ও দারিদ্র্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কয়েক দশক ধরে সবচেয়ে ধীর গতির ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বা দারিদ্র্য দূর করতে দেশটির অগ্রগতি ছিল নগণ্য। আজীবন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হবে বাংলাদেশকে বলে অনেক শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষক আশঙ্কা করেছিলেন। কেউ কেউ আবার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন দিয়েছিলেন দেশে মালথুসিয়ান বিপর্যয় ঘটার। অর্থাৎ, দেশটিতে জনসংখ্যার পরিমাণ বিদ্যমান খাবারের চেয়েও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।

 

তবে এতসব আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে, ১৯৭৫, ১৯৮২ ও ২০০৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং ধারাবাহিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে বাংলাদেশ।

গত মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি বছর মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

 

আইএমএফের পূর্বাভাসে উল্লেখিত দুই দেশের মধ্যকার ব্যবধান বেশ প্রকট। সংস্থাটির মতে, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১০.৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কিনারে টলটলায়মান থাকা হিসেবে বিবেচিত একটি দেশ কিভাবে এত নাটকীয়ভাবে উন্নতি লাভ করেছে? তার উপর ভারতকে অর্থনৈতিক অবস্থানে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, হোক তা কেবল মাথাপিছু আয়ের হিসেবে? এই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর পাওয়া যায় গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও একই সময়ে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীর গতি বিবেচনায় নিলে। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তুলে ধরায় ঢাকার সফলতা (আর এর মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা) প্রশ্ন জাগায়: ঠিক কিভাবে দেশটি এই অর্থনৈতিক বিস্ময় অর্জন করলো?

 

এর উত্তরগুলো জটিল। এক দিক দিয়ে, বাংলাদেশের সফলতা নেপথ্যে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো ব্যাপক অর্থ। এই প্রবাসীদের বেশিরভাগই বাস করেন পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোয়। এক কোটির বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী প্রতি বছর গড়ে দেশটিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পাঠিয়ে থাকেন। এই বিশাল আর্থিক অবদানের পাশাপাশি দেশে বেকারত্বের হার কমাতেও ভূমিকা রেখেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কাছাকাছি আয়তনের এই দেশটিতে ১৬ কোটির বেশি মানুষ বাস করে। তাছাড়া, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশে দারিদ্রতা কমাতেও ভূমিকা রাখে।

 

কিন্তু বাংলাদেশের সফলতা কেবল রেমিট্যান্সের উপর ভিত্তি করেই আসেনি। দেশের অর্থনীতির উন্নতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাদের পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক অসাধারণ সাফল্য। এই খাতে কাজ করে দেশের ৪০ লাখ মানুষ। প্রতি বছর দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এই শিল্প থেকে। চীন ও ভিয়েতনাম যখন অন্যান্য খাতের দিকে নজর ঘুরিয়ে নেওয়া শুরু করে, বাংলাদেশ তখন সযত্নে এই শিল্পকে বাড়িয়ে তুলতে মনোনিবেশ করেছে। বাংলাদেশে নারীদের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎসগুলোর একটি এই খাত। দেশটির আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে এটি। এই খাতে নারীদের কর্মসংস্থান, দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক, উভয় ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

উপরে বর্ণিত দুই খাত বাদে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সফলতায় আরো একটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। যেখানে ভারত মূলত সামাজিক খাতে ছোটখাটো পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের একাধিক সরকার নিজ নিজ মতাদর্শিক বাধাকে অগ্রাহ্য করে মাতৃসেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছে। এসব পদক্ষেপ দেশটিতে শিশু মৃত্যুহার, অপুষ্টি কমিয়েছে ও বেশকিছু রোগের বিস্তার দমিয়ে রেখেছে।

 

কিন্তু ঢাকার বুদ্ধিদীপ্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সত্ত্বেও দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের হাতে অবাধ রাজনৈতিক ক্ষমতা মজুদ থাকলে, সময়ের আবর্তে তারা দুর্নীতি ও লুটেরাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। তেমনটা ঘটলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশবিশেষ সম্ভব হয়েছে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র্য গোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে। কর্তৃত্বপরায়ণতার কবলে পড়লে এই অগ্রগতিগুলো নিমিষেই মুছে যেতে পারে। তেমনটা হলে দেশের নীতিমালা তৈরি হবে অভিজাত শ্রেণির স্বার্থ বিবেচনায়। তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুজি রক্ষায়।

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিতভাবেই উদযাপন করার মতো একটি বিষয়। তবে, এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কেবল একটি খাতের—পোশাক শিল্প— ওপর নির্ভরশীলতা দেশটির অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য ভালো নয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশে পোশাক শিল্প রপ্তানি হয় সেই দেশগুলোয় অর্থনৈতিক মন্দা আসলে তা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। আবার, দেশটি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের উপরও আজীবন নির্ভর করে থাকতে পারবে না। করোনা মহামারির মধ্যে দেখা গেছে যে, মুহূর্তের মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকরা ঝরে পড়তে পারে।

সূত্রঃ ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন

 

 

 

মুক্তকন্ঠ২৪

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *