মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তি উন্নয়নের হাতিয়ার, তাই অনুকরণের পরিবর্তে উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে: সজীব ওয়াজেদ সুইস রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উর্গবাদী সংগঠন দেশে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: ওবায়দুল কাদের ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি শীর্ষ ২৫ ব্যাংকে: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে: হাইকোর্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে থেকে কূটনীতিকের সংখ্যা কমাল  দেশ চলছে শতভাগ ব্যক্তিতন্ত্রের ওপর: গয়েশ্বর চন্দ্র ‘টেক্সট ফর ইউ’ শিরোনামে হলিউড সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘বিশ্বসুন্দরী’  প্রভাস তিন সিনেমায় নিচ্ছেন ৩০০ কোটি! রাজধানীতে ভিপি নূরের নেতৃত্বে মশাল মিছিল বার্সা উড়ছে মেসিকে ছাড়াই  প্রথম জয় বেক্সিমকো ঢাকার  নিরাময়ের বদলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে চলে নির্যাতন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ বাংলাদেশের প্রতি কি.মি. রাস্তা নির্মাণে সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকা যাচ্ছে তিন সংকটে শনিবার থেকে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হচ্ছে করোনা: বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার

জোনায়েদ সাকি-নুর জোট গড়ছেন, সঙ্গে আছেন জাফরুল্লাহ

মুক্তকণ্ঠ২৪ ডেস্ক:

 

নতুন একটি দল বা জোট গঠনের চিন্তা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ‘রাষ্ট্র চিন্তা’নামে একটি সংগঠনের দায়িত্বশীলরাও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

 

উদ্যোক্তা সূত্রে জানা গেছে, দল গঠনের আগে তারা যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করবেন।

 

ইতোমধ্যে গত ২৮ নভেম্বর জাতীয় শহীদ মিনারে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী কেন্দ্র করে তারা একটি যৌথ সমাবেশ করেছেন। সে সমাবেশে মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র চিন্তা একসঙ্গে অংশ নেয়।

প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতারা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও রাজপথে কর্মসূচি নির্ভর এবং আরও নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাবে। সেদিক থেকে সমমনা অপরাপর কোনও দল যুক্ত হলে উদ্যোগটি জোটগত রূপ নিতে পারে।

 

অন্য একটি সূত্রের দাবি, নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

গণসংহতি আন্দোলনের একাধিক নেতা জানান, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি কেন্দ্রিক ঐক্য করতে বরাবরই আগ্রহী গণসংহতি। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

 

দলটির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের অন্যতম একজন সদস্য বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক কর্মসূচি দেওয়ার ইচ্ছা আছে, এমনকি একটা জোট তৈরির সম্ভাবনাও আছে।’ তবে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক মিলে নতুন দল করার বিষয়ে কোনও নেতাই স্বনামে উদ্ধৃত হতে রাজি হননি।

 

এর আগে প্রয়াত রাজনীতিক আবদুস সালামের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ২০১০ সালে গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে একীভূত হয়। গণসংহতি নেতা দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু জানান, ২০১০ এ গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগে ২০০৯ সালে কৃষক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন মজদুর পার্টির সঙ্গে যূথবদ্ধ হয়। পরের বছর আবদুস সালাম ও দেওয়ান আবদুর রশিদ মিলে গণসংহতি আন্দোলনে তাদের পার্টি একীভূত করেন।

 

গণসংহতি আন্দোলনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে গণসংহতি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য সব দলের সঙ্গেই ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐক্য করার পক্ষে দলটির নেতারা। আর একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী সংগঠনের মূল শক্তি, নেতৃত্ব ও যৌথ কর্মসূচিতে তাদের নেতাকর্মীদের আচরণ ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পরই নতুন দল বা জোট করার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

 

সংহতির রাজনৈতিক পরিষদের আরেক সদস্য মনে করছেন, ‘প্রক্রিয়াটি এখনও নিশ্চিত কিছু নয়। দল হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে রাজনৈতিক ঐক্য-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সবাই মিলে একসঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচির দিকে যেতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা চারটি সংগঠন মিলে ২৮ নভেম্বর শহীদ মিনারে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী কেন্দ্র করে যৌথ সমাবেশ করেছি।’

 

‘আপনাদের নতুন দল করার সম্ভাবনা কতটা’—এমন প্রশ্নে নুরুল হক বলেন, ‘আমরা এখন নতুন দল করছি না, আমরা চাই গণতন্ত্র উদ্ধারে সর্বদলীয় ঐক্য। আমরা ছোটভাবে শুরু করেছি। এটা আশা করি দিনে-দিনে সামনের দিকে যাবে।’

 

নতুন দল ও সম্ভাব্য জোটের বিষয়ে জানতে চাইলে মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘এখনও ওইসব কিছু না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে কেউই বসতে চায় না, একে-অপরকে সন্দেহ করে। কোনও চেষ্টা নেই। দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে বেরুতে হবে। কিন্তু বড় দলগুলোতে গণ্ডগোল। সবাইকে বলেছি—অন্যদেরকে ডাকো, সবাইকে একত্র করো।’

 

‘রাষ্ট্র চিন্তা’র সদস্য হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এখনও দল বা জোট করার কোনও বিষয় আসেনি। যে পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি, আমি মনে করি, এই রাষ্ট্রের সংকট সমাধান করতে যারা আন্তরিক, তাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

 

জানতে চাইলে রোববার রাতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘মওলানা ভাসানীকে কেন্দ্র করে আমরা একত্রিত হয়েছি। গত শনিবার সমাবেশ করলাম। ভবিষ্যতে একসঙ্গে আরও কাজ করার কথা ভাবছি, আলোচনা করছি। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি।’

 

একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানায়, মওলানা ভাসানীকে বিশেষভাবে স্মরণ করায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ে উদ্যোগটি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। দলটির একজন দায়িত্বশীল বলেন, ‘অবশ্যই এই উদ্যোগে বিএনপি খুশি।’ যদিও গণসংহতি আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে গত ২৫ বছর ধরে নিয়মিতভাবে মওলানাকে স্মরণ করে সংহতি, হঠাৎ করে নয়।’

 

উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতারা জানান, ২৮ নভেম্বর শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ, মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র চিন্তা মিলে যৌথ সমাবেশ করেছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর অন্যান্য আগ্রহী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করার সম্ভাবনা আছে। সেদিন এ বিষয়টিকে আরও সামনে নেয়ার বিষয়ে আরও আলাপ হবে।

 

 

 

মুক্তকন্ঠ২৪

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *