রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চসিকের ১৫ স্পটে মিলল এডিসের লার্ভা সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে: আতিক শ্রমিকদের জন্যই সাময়িকভাবে গণপরিবহন চালু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাল ঢাকায়, ৭ আগস্ট দেশজুড়ে অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজ মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটে কারখানা খোলায়  সংক্রমণ আরও বাড়ার শঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এডিস নিধনে ডিএসসিসির অভিযান, জরিমানা সরকার কৃষকদের লাভবান করতে ভর্তুকি দিচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী সবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করা দরকার: মোমেন সপ্তাহে কোটির বেশি টিকা দেওয়ার টার্গেট গার্মেন্টসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ হওয়ার আশাবাদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাংসদ আলী আশরাফের মৃত্যুতে শোক প্রধানমন্ত্রীর সাংসদ আলী আশরাফের মৃত্যুতে শোক রাষ্ট্রপতির অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু কাল–পরশু অক্সফোর্ডের টিকার দ্বিতীয় চালান আসলো জাপান থেকে অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এপিজির সভাপতি বিদেশিদের শেয়ারবাজারে উৎসাহিত করতে ’রোড শো’ অনুমোদনহীন আইপি টিভির হলে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে জেলা শিক্ষা অফিসারের সচেতনতা ক্যাম্পেইন, ৫০০০ মাস্ক বিতরণ

যুক্তরাষ্ট্রেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল খাশোগির হত্যাকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে যারা  হত্যা করেছে,তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। সৌদি আরবের চারজন আধাসামরিক প্রশিক্ষিত ঘাতকরা মিলে হত্যা করেছিল ওয়াশিংটন পোস্টের এই সাংবাদিককে।

 

সাংবাদিক জামাল খাশোখী হত্যাকান্ডের বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন এমন ব্যক্তি ও বিভিন্ন নথিপত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদনেই ওই ব্যক্তিরা সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন,বলে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন পোস্ট।

 

 

এর আগে,দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে  ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর  ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন জামাল খাশোগী।পরে, সেখান থেকে তিনি আর বের না হওয়ার বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরবর্তীতে,তাকে কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়েছে বলে বিশ্ব মিডিয়ায় খবর প্রচারিত হলে তা বিশ্ববাসীর নজরে আসে।সেসময়  সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো  হয়ছে বলে সম্প্রতি তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন।

 

মূলত,সৌদি রাজ পরিবারের এক সময়ের ঘনিষ্ঠজন থেকে কড়া সমালোচনা করার কারণেই হত্যার শিকার হতে হয় ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগীকে। নিজের শেষ কয়েকটি কলামে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশকে আধুনিক করার নানা উদ্যোগের সমালোচনা করেছিলেন সৌদি বংশোদ্ভূত এই সাংবাদিক।যা স্বভাবতই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সহ্য করতে পারেননি।ফলে, হত্যা করা হয়েছে, জামাল খাশোগীকে।

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খাশোগীকে হত্যার এক বছর আগে সৌদি আরবের ওই চার এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আরাকানসাসভিত্তিক সিকিউরিটি কোম্পানি ‘টায়ার ১ গ্রুপ’। এই কোম্পানির মালিক বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা গ্রুপ সারবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

 

অন্যদিকে “টায়ার ১ গ্রুপের”পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই প্রশিক্ষণে ‘নিরাপদ লক্ষ্যভেদ’ এবং ‘হামলা মোকাবেলার’ মতো বিষয়গুলো শেখানো হয়েছিল। চারজনের প্রশিক্ষণে আত্মরক্ষামূলক এবং সৌদি আরবের নেতাদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে তাতে জোর দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া নজরদারি এবং স্বল্প পরিসরে লড়াইয়ের ওপরও তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়,বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

 

পেন্টাগনের একটি শীর্ষ পদে মনোনয়নের সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে“টায়ার ১ গ্রুপের” মালিক সারবেরাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুইস বারমার ওই প্রশিক্ষণে তাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

খাশোগী হত্যায় যারা নিয়োজিত তাদের  চার জন ২০১৭ সালে টায়ার ১ গ্রুপের প্রশিক্ষণ নেয় এবং তাদের মধ্যে দুই জন এর আগে ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আরেকটি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল একই কোম্পানিতেই বলে জানিয়েছে, বারমার। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে যে নথিপত্র দিয়েছেন সেখান থেকে এসব তথ্য  জানা জানা গিয়েছে।

 

বারমার জানায়,হত্যাকারীদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে তারা যে ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তার কোনো যোগসূত্র ছিল না।“

 

বারমার আরও  জানান, টায়ার ১ গ্রুপের ২০১৯ সালের মার্চে একটি পর্যালোচনায় বলা হয়, জামাল খাশুগজির হত্যার সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কোনো যোগসূত্র নেই।”

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে টায়ার ১ গ্রুপের প্রশিক্ষণ নিতে হলে আগ্রহী ব্যক্তিকে সরকারের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হয়।

 

বারমার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের অনুমোদনের দায় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এবং অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে থাকে।

 

২০১৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রথম দাবি করা হয়, সাংবাদিক খাশোগীকে হত্যাকারী দলের চার সদস্যই যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ওই কলামে বলা হয়, টায়ার ১ গ্রুপ তাদের নিবন্ধন ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের কোনো প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে, যা সন্দেহজনক এবং সিআইএ তৎকালীন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এই চার সৌদি নাগরিককে টায়ার ১ গ্রুপে প্রশিক্ষণ নেওয়ার নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন কিনা তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

অন্যদিকে, সৌদি আরবে শাসকগোষ্ঠী যে দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছিল ‘টায়ার ১ গ্রুপের’ কর্মকর্তারা অথবা এই প্রশিক্ষণের অনুমোদনকারী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তারা তা জানতেন- এমন কোনো প্রমাণ যথাযথভাবে পাওয়া যায়নি।

 

সাংবাদিক জামাল খাশোগীর হত্যাকান্ডই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, একটি স্বৈরাচারী শাসনাধীন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং যাদের এজেন্টরা এ ধরনের নিষ্ঠুর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ করতে পারে।আর বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণটি অনুমোদন করা হয়েছিল যে, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তারা একজন সাংবাদিককে হত্যার অভিযানে অংশ নিয়েছে।

 

এছাড়াও  এই ঘটনায় এটাও উঠে এসেছে যে, এমন সরকারগুলোর সঙ্গে এ ধরনের সামরিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটনের খুব একটা নজরাদারি নেই। বিশেষ করে যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরেছে, তারা আসলে কী করছে, তাদের ক্ষেত্রে,এটি বেশি প্রযোজ্য।

 

বারাক ওবামার আমলে শুরু হওয়া ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তার উত্তরসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে অন্তত প্রথম এক বছর অব্যাহত ছিল।যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৪ সালে প্রথম সৌদি রয়াল গার্ড বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে ‘টায়ার ১ গ্রুপকে’ অনুমতি দেয়।

 

অন্যদিকে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্হিত সৌদি দূতাবাসের কোনো  বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *