August 9, 2020, 8:11 am
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধ হবে বেসরকারি হাসপাতাল, লাইসেন্স নবায়ন না করলে ১৬জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে কাল অনলাইনে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু শিশুর অক্সিজেন মাস্ক খুলে হত্যার অভিযোগ অপহরণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশে ব্যবসার প্রধান সমস্যা দুর্নীতি করোনকালেও ‘নগদ’ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বঙ্গমাতার জন্মদিনে শারীরিক উপস্থিতিতে রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট ডিএমপিতে ছয় কর্মকর্তার বদলী শেখ হাসিনার অভিনন্দন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকশেকে চুয়াডাঙ্গায় ও ময়মনসিংহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ লক্ষ্মীপুর ভোলা-বরিশাল লক্ষ্মীপুর সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরে সেলাই মেশিন বিতরণ লক্ষ্মীপুর জেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করোনাভাইরাস আরো ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,৬১১ দৌলতদিয়ায় চরম ভোগান্তিতে বাসের যাত্রী, ছোট গাড়িকে অগ্রাধিকার, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন বঙ্গমাতা: প্রধানমন্ত্রী আজ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলর লড়াই মার্কিন নির্বাচনে চীন, রাশিয়া, ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীর একজনকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে’

লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার জমিদার বাড়িঃ সংস্কারের পর জনগনের বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত

মো. কাউছার, লক্ষ্মীপুর থেকে : দীর্ঘ ৪৫ বছর পর লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, প্রায় ৭০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে জনগনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। মুক্তকণ্ঠ২৪ কে স্বাক্ষাতকার দেয়ার সময় আরো ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান, জমিদার বাড়ির চারিপাশে রাস্তা নির্মান, মজা পুকুর ভরাট করা, মাঝখানের পুকুরের চারপাশে গাইড ওয়াল নির্মান, আরো কিছু সোলার লাইট স্থাপনসহ শিশুদের বিনোদন সামগ্রী ক্রয় ইত্যাদি।

 

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, এতদিন কেবল নামেই দর্শনীয় তালিকায় ছিল এ জমিদার বাড়িটি। এবার তাঁর উদ্যোগে মানুষের কাছে উপভোগ করার মত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০ লাখ টাকা সরকারী বরাদ্ধ পেয়ে সব টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছ, পুরা বাড়ীর জঙ্গল গুলোকে আবাদ করা হয়েছে, চলাচলের সুবিদার জন্য ৪/৫টি ছোট বড় রাস্তা করা হয়েছে, অনেক গুলো ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে,পর্যটকদের বসার জন্য কয়েকটি গোল ঘর স্থাপন করা হয়েছে। মোটামটি একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দর্শনার্থীদের জন্য একটি সুন্দর বিনোদন পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হয়েছে। দূর ধূরান্তের দর্শনার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক ভাবে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরো কলেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ পেলে জমিদার বাড়িকে এমন ভাবে সাজাবো যা লক্ষ্মীপুর জেলাবাসীর কাছে আজীবন দর্শনীয় স্থান হয়ে থাকরে।

 

নেই জমিদার, আছে জমি, আর আছে শুধু জমিদারদের রেখে যাওয়া স্থাপত্য। ‘রাম নেই, নেই রাজত্ব’ এটি একটি বাংলা প্রবাদ হলেও এমন বাস্তবতাই বলছে শত বছর আগের লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার জমিদার বাড়িটি ঘিরে। বিধ্বস্ত প্রায় ত্রিতল প্রাসাদ, সুড়ঙ্গপথ আর ঐতিহ্যবাহী খাজনা আদায়ের কাছারি ঘরটিও দাড়িয়ে আছে ঐতিহ্যাসিক সাক্ষী হয়ে। এই বাড়িটি সংস্কার করে একটি পর্যটন স্পট হিসাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য গ্রহন করার দাবী দীর্ঘ দিন থেকে স্থানীয়রা প্রশাসনের নিকট করে আসলেও কোন ফল পায়নি এলাকাবাসী । অবশেষে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল সব বির্তকের উদ্বে উঠে সরকারী সহযোগীতায় জমিদার বাড়িটির প্রায় সত্তর কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার করে সংস্কার করে অনেক গুলো সুন্দর কাজ করেছেন। বাকি অসম্পূন্ন কাজ গুলো করে দিলে জমিদার বাড়িটি লক্ষ্মীপুর বাসীর নিকট ঐতিহ্যাসিক সংরক্ষণ হিসেবে সমাদ্রিত হয়ে থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায় সরকারী উদ্বোগে প্রশ্নত্বত্ত বিভাগ অথবা পর্য়টন মন্ত্রনালয়ে যে কোন বিভাগের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রন করা হলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। লক্ষ্মীপুর জেলাসহ এ অঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষের আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে ঘুরে ফিরে দেখার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দুরত্বে ঢাকা-রায়পুর সড়কের সাথে অবস্থিত দালাল বাজার সংলগ্ন জমিদার বাড়িটি। সকল দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ জমিদার বাড়ির পুরাকৃতিক ঘিরে। দালাল বাজারের পাশেই প্রায় সাড়ে সাত একর সম্পত্তিত্বে রয়েছে পরিত্যক্ত রাজ গেইট, জমিদার প্রাসাদ, অন্দর মহল, শান বাঁধানো ঘাট, জমিদার বাড়ির প্রাচীর, নির্মাণ সমগ্রী, বিশেষ করে কয়েক টন ওজনের লোহার ভীম, তৎকালীন জমিদাররা ইংল্যান্ড থেকে লোহার ভীম এনে বাড়ির ছাদ করার জন্য ব্যবহার করেন, বিরাট আকার লোহার সিন্ধুক, নৃত্যশালা, বহিরাঙ্গন, সেই জমিদার পরিবারের স্মৃতি আজও বহন করে আর এইসব নিদর্শন দেখতে আজো দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অসংখ্য মানুষ। ৭ একর মধ্যে ২ একর জমির উপর জমিদার বাড়ির মূল ভবন বাকি ৫ একরের মধ্যে ৪ টি পুকুর ও বাগান রয়েছে।

 

তৎকালীন এতদাঞ্চলের রাজা ছিলেন রাজা গৌরি কিশোর রায়। তিনি ১৭৬৪ সনে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী থেকে রাজা উপাদি লাভ করেন। তাঁর সহর্ধীনি ছিলেন রাণী লক্ষ্মী প্রিয়া রায়। উপমাহাদেশের প্রথম সেটেলমেন্ট জরিপ (সিএস জরিপ) এই জমিদার বাড়ি থেকে শুরু হয়। তখন এই জমিদার বাড়ি এলাকার নামকরন করা হয় রাণী লক্ষ্মী প্রিয়ার নামানুসারে লক্ষ্মীপুর। যাহার জে এল নং ৬৪ পাস্ববর্তী মৌজাস্থ বাজারের নামকরন করা হয় লক্ষ্মীপুর বাজার। যাহা পরবর্তী সময়ে লক্ষ্মীপুর থানা, মহকুমা, বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা হিসেবে বাংলাদেশের মানচিত্রে পরিচিত। রাজা গৌরকিশর রায় এর উত্তরসূরী নরেন্দ্র কিশোর রায় ও তার পরিবার পরিজন ১৮৩০ সন থেকে ১৮৫০ সন পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে এই জমিদার বাড়ির ভিতরে দালান কোটা গুলি নির্মণ করেন।

 

১৯৪৬ সালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজারের জমিদার নবীন কিশোর রায় ও নরেন্দ্র কিশোর রায় প্রায় ৩৬ একর সম্পত্তি রেখে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে সরকার জমিদার প্রথা বিলুপ্ত করায় সরকারী হিসেবে এ সম্পত্তি পরিনত হয়। এরপর আস্তে আস্তে একটি প্রভাবশালী চক্র উক্ত জমিদার বাড়ি অবৈধভাবে দখল করে নেয়ার চেষ্টা করে। মামলা হাইকোট পর্যন্ত গড়ায়।
সাবেক জেলা প্রশাসক একে এম টিপু সুলতান ও সাবেক পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান দুই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উক্ত জমিদার বাড়িটি উদ্ধার করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে নিলে হাইকোটের রিট মামলার কারনে মাঝ পথে কার্যক্রম থেমে যায়। পরে হাইকোটের রিট মামলা গুলো গত বছর ২৯আগস্ট নিসম্পতি হয়। রায় আসে সরকারের পক্ষে। রায় পাওয়ার পর বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল নিজ দায়িত্বে কঠর হস্তে সব কিছু মোকাবেলা করে এ জমিদার বাড়ি সরকারী সম্পদ উদ্ধার করেন।

 

জমিদার বড়িতে গুরতে আশা কয়েজন দর্শনার্তী জানান, বর্তমান ডিসি স্যারের উদ্বোগে এই জমিদার বাড়িকে খুব সুন্দর করা হয়েছে, আমরা খুব খুশি। জরুরী ভিত্তিতে যদি শোচাগার নির্মান করে দেয়া হয়, তাহলে তাদের জন্য অনেক ভাল হত।
বিশিষ্ট রাজনীতীবিদ, ক্রীড়া সংগঠক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল নিজের বাড়ি মনে করে খুবই গুরুত্ব সহকারে এই জমিদার বাড়ি রক্ষা করে দেখা শুনা করছেন। এ জন্য জেলাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নাই, আমরা জেলাবাসী ঋীনী হয়ে থাকব।

 

বিশিষ্ট সাংবাকি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী গিয়স উদ্দিন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমি ও আমার সাংবাদিক বন্ধুরা অনেক লেখা লেখির পর বর্তমান জেলা প্রশাসক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে জমিদার বাড়ি ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছেন, তা আমাদের মাঝে চীর স্বরনীয় হয়ে থাকবে। আমরা আশা রাখি তিনি যে কোন উপায়ে সরকারী বরাদ্দ নিয়ে বাকি অ সমাপ্ত কাজ দ্রæতার সাথে শেষ করবেন।
দালাল বাজার ইউনিয়ন ভূুমি অফিসের তহসীলদার মো. আবদুস শহীদ জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক স্যারের সার্বিক সহযোগীতায় জমিদার বাড়ি উদ্ধার ও সংস্বকার হয়েছে, বাকি কাজ গুলি করার জন্য অর্থ বরাদ্ধ ফেলেই কাজ শুরু হবে।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার জমিদার বাড়িঃ সংস্কারের পর জনগনের বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত”

  1. হোসাইন আহমদ হেলাল says:

    একটি ঐতিহাসিক সাহসী উদ্যোগ, এ জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল কে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

  2. হোসাইন আহমদ হেলাল says:

    একটি ঐতিহাসিক সাহসী উদ্যোগ, এ জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল কে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *