রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কারখানা খোলায়  সংক্রমণ আরও বাড়ার শঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এডিস নিধনে ডিএসসিসির অভিযান, জরিমানা সরকার কৃষকদের লাভবান করতে ভর্তুকি দিচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী সবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করা দরকার: মোমেন সপ্তাহে কোটির বেশি টিকা দেওয়ার টার্গেট গার্মেন্টসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ হওয়ার আশাবাদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাংসদ আলী আশরাফের মৃত্যুতে শোক প্রধানমন্ত্রীর সাংসদ আলী আশরাফের মৃত্যুতে শোক রাষ্ট্রপতির অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু কাল–পরশু অক্সফোর্ডের টিকার দ্বিতীয় চালান আসলো জাপান থেকে অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এপিজির সভাপতি বিদেশিদের শেয়ারবাজারে উৎসাহিত করতে ’রোড শো’ অনুমোদনহীন আইপি টিভির হলে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে জেলা শিক্ষা অফিসারের সচেতনতা ক্যাম্পেইন, ৫০০০ মাস্ক বিতরণ শ্রমিকদের এখন কারখানায় যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় লকডাউন চলমান রাখার সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হচ্ছে তৃতীয় ধাপে ভারত থেকে আসলো ২০০ মে. টন অক্সিজেন উপনির্বাচন: সিলেট-৩ আসনে ভোট  ৪ সেপ্টেম্বর

মৃত্যু ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ: লুবনা ফার্মেসির প্রদীপের অপচিকিৎসা

মুক্তকন্ঠ রিপোর্ট

শহরের কলেজ রোডের লুবনা ফার্মেসির মালিক প্রদীপ মজুমদার ডাক্তার না হলেও ডাক্তারী করছেন। প্যাডে ডাক্তার লিখছেন না, তবে ডিগ্রি হচ্ছে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল সাইন্স, এ ডিগ্রি কি রোগী দেখার জন্য না ফার্মেসি পরিচালনার জন্য, তা জানা নেই এই প্রতিবেদকের। তবে লক্ষ্মীপুর শহরে সেক্সুয়াল অথবা যৌন ডাক্তার নামে প্রদীপের পরিচয়। তার দোকান, গুদাম, বাসায় দেশী-বিদেশী সেক্সুয়াল ঔষধের সমাহার। সে নিজেকে সব রোগের বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে থাকেন। প্রদীপ মজুমদারের অনেক গুলো ব্যবস্থাপত্র এ প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছেছে। কয়েকটি ব্যবস্থাপত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, রোগী মানিক মিঞাকে তার ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ দেয়া হয় সেক্সের জন্য। ব্যবস্থপত্র লেখা হয় বাংলা ইংরেজী দু’ভাষায়। হাতের লেখায় মনে হচ্ছে ৫ম শ্রেণির ছাত্রও এর থেকে সুন্দর লেখা লিখতে পারেন।

 

মানিক মিঞার বয়স হলো (৪৬), এ রোগীকে তিনটি সেক্সের ওষুধ দেয়া হয়। প্রতিদিন এ তিনটি খেতে হবে। যাকে বলে হাই ডোজ। এ ওষুধ মানিক মিয়ার দু’ধরণের ক্ষতি হতে পারে একটি যে কোন সময়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে অথবা আজীবন তার যৌন শক্তি হারিয়ে যাবে। ১০/১৫ দিন হয়তো মানিক মিঞা ভাল থাকতে পারে। এ মন্তব্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের।

একজন রোগীর নাম শামছুদ্দিন, বয়স তার (৫৭) এ রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। তাকে যে ডোজ এ ওষুধ খেতে দেয়া হয়, এ ডোজ কোন ভাবে মিলছেনা নিয়ম মতে। অজ্ঞতার অভাবে সঠিক ডোজ দিতে পারেনি প্রদীপ মজুমদার। আরেক রোগীর নাম মিতু আক্তার, তার বয়স (২৫), তাকে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেয়া হয়। সেখানেও সঠিকভাবে ডোজের নিয়ম নেই। এভাবে আরও অসংখ্য রোগী প্রতিদিন দেখছেন প্রদীপ যার একশত ভাগের ৯৯ ভাগই ভুল চিকিৎসা।

 

এভাবে প্রদীপ অপ চিকিৎসা দিয়েও বসে নেই, বিক্রি করছে চায়না হারবাল, ভারতীয় হারবাল যার মূল্য ঢাকার মিটফোর্ডে ৩০/৪০ টাকা, লক্ষ্মীপুরে বিক্রি করছে ৬০০/৭০০ টাকা। এসব ওষুধের গায়ে কোন মূল্য লেখা নেই। সে সরকারি অনুমোদনহীন, ডিএআর নাম্বারবিহীন ওষুধ বিক্রি করে থাকে। প্রদীপ মজুমদার এখানেও বসে নেই সে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল পর্যায়ের মানুষের সকল রোগের চিকিৎসা করে থাকে। শুধু তাই নয় গরীব অসহায় রোগীদের সাথে প্রতরণা করে তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে অপচিকিৎসার নামে। জেলা শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে তার নিযুক্ত অ্যাজেন্ট রয়েছে। যাদের মাধ্যমে রোগী আসে। তাদেরকে সে খুশী করছে টাকা দিয়ে।

উল্লেখ্য, প্রদীপ মজুদারের এসব অনিয়মের দায়ে তাকে ইতোপূর্বে গ্রেফতার করা হয়েছিল, প্রায় দু’মাস জেল খেটেছে সে। স্বর্ণকার থেকে প্রদীপ মজুমদার এখন ডাক্তার হলেন। এ বিষয়ে আগামী সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন লেখা হবে।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *