August 4, 2020, 8:04 am
সংবাদ শিরোনাম :
করোনাভাইরাস: আরো ২১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,১৯৯ বন্যার্তদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে হচ্ছে না ঈদ জামাত শুরু হলো শোকাবহ আগস্ট আজ পবিত্র ঈদুল আজহা বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে সেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা ক’জন এর পক্ষ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করোনায় ব্যতিক্রমী হজ পালন দেখলো বিশ্ববাসী শোকের মাসে চাঁদাবাজি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: ওবায়দুল কাদের একদিনের পরামর্শক ফি ১৫ লাখ টাকায় ওয়াসায় নিয়োগ ঈদযাত্রায় আবারো চিরচেনা রুপে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এ বছর রেকর্ড গড়লো অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি দেশে অধঃস্তন আদালত ৫ই আগস্ট থেকে স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে  সাহেদের অস্ত্র মামলার চার্জশিট দিলো গোয়েন্দা পুলিশ করোনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সীমিত পরিসরে ঈদ উদযাপন লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে আজ আগাম ঈদুল আযহা উদযাপিত বাংলাদেশের প্রাথমিক দল নিয়ে বিতর্ক চলছেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে করোনাভাইরাসে একদিনে ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,৭৭২ কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

শিশু মুখর অমর একুশ বইমেলা

বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে বইমেলায় আসে ছোট্ট সূর্য। বাঙালির প্রাণের এ মেলা প্রাঙ্গণে বেশ কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে বাবা আরিফুল তাকে কিনে দেন আইকিউ মাস্টার এবং টোনাটুনির ম্যাজিক নামের দুটি বই।

 

হাতে পছন্দের নতুন বই পেয়ে বেজাই খুশি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সূর্য। আনন্দে বই হাতে নিয়েই বাবাকে বললেন- ‘থ্যাঙ্ক ইউ বাবা। তুমি আমার লক্ষ্মী বাবা। থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ বাবা।’

 

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন অনেক চিত্রই দেখা গেছে। শিশুপ্রহর হওয়ায় সকাল থেকেই বাবা-মায়ের হাত ধরে বইমেলায় ছুটে আসে খুদে পাঠকরা। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।

 

মেলায় আসার অনুভূতি জানতে চাইলে সূর্য মুক্তকন্ঠ২৪ কে বলেন, ‘বাবা গত বছরও আমাকে বইমেলায় নিয়ে এসেছিলেন। নতুন বই কিনে দিয়েছিলেন। এবারও আমার পছন্দের নতুন বই কিনে দিয়েছে বাবা। বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে।’

 

পাশে থাকা সূর্যের মা রাইমা মুক্তকন্ঠ২৪ কে বলেন, ‘আমাদের একটাই সন্তান। ওকে ঘিরেই আমাদের সব স্বপ্ন। স্কুলে যাওয়ার আগে থেকেই বইয়ের প্রতি সূর্যের অনেক টান। বই পড়তে ভালোবাসে, মা হিসেবে এটা আমার খুব ভালো লাগে।’

 

তিনি বলেন, ‘ছেলের বইয়ের প্রতি টান দেখে গত বছর ওকে প্রথম বইমেলায় নিয়ে আসে ওর বাবা। এরপর ছেলের আবদারে গতবছর আরও দুইবার বইমেলায় আসা হয়। এবারও ছেলের আবদারে মেলায় এসেছি। নতুন বই পেয়ে ছেলের যে আনন্দ তা দেখে মন ভরে গেছে। মা হিসেবে আর কী চাওয়ার আছে?

 

বইমেলায় সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সময়কে শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে মেলা প্রাঙ্গণে ছুটে আসছে খুদে পাঠকরা। আর এই খুদে পাঠকদের কথা মাথায় রেখে মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ছোটদের উপযোগী অসংখ্য বই দিয়ে সাজিয়েছেন স্টল। ছোটদের বিজ্ঞানের খেলা, আইকিউ মাস্টার, ছোটদের মজার মজার ধাঁধা, টোনাটুনির ম্যাজিক, বিজ্ঞানের বিস্ময় ও আবিষ্কার এ ধরনের মজাদার বই রয়েছে স্টলে স্টলে।

 

একটি স্টল থেকে ছোটদের মজার মজার ধাঁধা বই কেনা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়ানা বলেন, ‘ধাঁধা আমার খুব ভালো লাগে। এই বই পড়ে অনেক ধাঁধা শিখব, বন্ধুদের ধাঁধা ধরব। অনেক মজা হবে।’

 

শিশুপ্রহরে মজার মজার বইয়ের পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সিসিমপুর। টুকটুকি, হালুম, শিকু, ইকরির গল্পেও মজেছেন খুদে পাঠকরা। লাফালাফি, হাসাহাসিতে মত্ত হয়ে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর করে তোলেন শিশুরা।

 

জিনিয়া নামের একজন মুক্তকন্ঠ২৪ কে বলেন, ‘সিসিমপুরের টুকটুকি আর শিকুকে আমার খুব ভালো লাগে। ওরা কী সুন্দর করে কথা বলে। হালুম ইকরিও ভালো। শিকু বেশি ভালো।’

 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে একদিন পিছিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবারের বইমেলা। মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণে মুজিববর্ষ উদযাপনের ছোঁয়া লেগেছে। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।

 

বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি স্টল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি স্টলসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে। লিটল ম্যাগাজিনকে ১৫২টি স্টল বরাদ্দ ছাড়াও ছয়টি উন্মুক্ত স্টল রাখা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

 

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। ছুটির দিন মেলা খোলা থাকবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বইমেলা খোলা থাকবে।

 

প্রতিদিন বিকেল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতাকে নিয়ে ২৫টি বই প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। নতুন এসব বই নিয়েও আলোচনা করা হবে। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

 

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *