August 9, 2020, 9:12 am
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধ হবে বেসরকারি হাসপাতাল, লাইসেন্স নবায়ন না করলে ১৬জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে কাল অনলাইনে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু শিশুর অক্সিজেন মাস্ক খুলে হত্যার অভিযোগ অপহরণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশে ব্যবসার প্রধান সমস্যা দুর্নীতি করোনকালেও ‘নগদ’ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বঙ্গমাতার জন্মদিনে শারীরিক উপস্থিতিতে রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট ডিএমপিতে ছয় কর্মকর্তার বদলী শেখ হাসিনার অভিনন্দন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকশেকে চুয়াডাঙ্গায় ও ময়মনসিংহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ লক্ষ্মীপুর ভোলা-বরিশাল লক্ষ্মীপুর সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরে সেলাই মেশিন বিতরণ লক্ষ্মীপুর জেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করোনাভাইরাস আরো ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,৬১১ দৌলতদিয়ায় চরম ভোগান্তিতে বাসের যাত্রী, ছোট গাড়িকে অগ্রাধিকার, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন বঙ্গমাতা: প্রধানমন্ত্রী আজ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলর লড়াই মার্কিন নির্বাচনে চীন, রাশিয়া, ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীর একজনকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে’

সবাই না এলে সফল হবে না কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা : জবি উপাচার্য

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এই উদ্যোগে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে এই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব বিষয় নিয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

ড. মীজানুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো আছে তার সবক’টির মীমাংসা সম্ভব। সবাই না এলে এটি সফল হবে না। পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়, বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি না আসে, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি থেকেই যাবে।

সমন্বিত ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষা বাদ দিয়ে গুচ্ছ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত কেন? এর জবাবে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, সমন্বিত পরীক্ষা কখনও ছিল না, ইউজিসির সঙ্গে গত বৈঠকে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছিল কেন্দ্রীয়ভাবে একটা ভর্তি পরীক্ষা হবে, স্যাট বা জিআরইর মতো। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য এ তিনটি পরীক্ষা নিয়ে স্কোর দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শর্ত অনুযায়ী ছাত্র ভর্তি করবে। কিন্তু, বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন এলো না, তখন অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা গেলো। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা হবে এবং শিক্ষকরা পরীক্ষা নেবেন, কোনও কলেজ বা বাইরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না এলে তাদের অবকাঠামো ব্যবহার করা যাবে না। ফলে আমাদের ঢাকার শিক্ষার্থীদের কুমিল্লা, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় না আসায় একই সমস্যা হবে। তাই এসব চিন্তা করেই গুচ্ছ পদ্ধতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। গুচ্ছ করে হলে ছাত্রসংখ্যা কমে আসবে। কৃষি, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পৃথক পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বৈঠকের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক উপাচার্য আমাকে বলেছেন তারা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগ আছে। তাই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে সাধারণের সঙ্গে পরীক্ষা হওয়ার।

চার গুচ্ছে পরীক্ষার বিষয়ে জবি উপাচার্য বলেন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলো রয়েছে, সেগুলোতে তিনটি করে পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য আলাদা তিনটা পরীক্ষা লাগবে। এছাড়া অন্য গুচ্ছগুলোতে অর্থাৎ কৃষি, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একটি করে মোট ছয়টি পরীক্ষা হতে পারে। আরা যারা ডিসিপ্লিন পরিবর্তন করতে চায়, তাদের জন্যও ব্যবস্থা থাকবে।

তাহলে ভর্তি কীভাবে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্রেডিং কী হবে, সাবজেক্ট চয়েস কী হবে এর উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্রেডিংয়ের বিষয় নেই। তবে প্রকৌশল, কৃষিকে বাদ দিলে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষাই হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের চাহিদা দেবে, সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ভর্তি হবে এবং সাবজেক্ট চয়েস আগের মতো ট্রান্সফার, অটো ট্রান্সফারে হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া এখনকার মতোই হবে—যোগ করেন তিনি।

মীজানুর রহমান বলেন, বেশিরভাগ উপাচার্যই লিখিত পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। কোনও এমসিকিউ হবে না, লিখতে হবে, সঠিক উত্তর হলে নম্বর পাবেন পরীক্ষার্থীরা।

ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা সব করবেন। তারা যেভাবে পরীক্ষা নেন, পরীক্ষা কমিটি, প্রশ্ন মডারেশন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের দ্বারা গঠিত কমিটিই করবে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক মীজানুর রহমান।

জবি উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করতেই আসলে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নেওয়ার কথা হয়েছিল। এখানে কে লাভবান হবে বা হবে না সে চিন্তার সুযোগ নেই, এটা ব্যবসা না। কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়ায় সব বিশ্ববিদ্যালয় এলে ভালো হতো।

ভর্তি পরীক্ষার স্কোরিং কীভাবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা খাতা দেখবেন এবং তারা একটা স্কোর করে দেবেন। এই স্কোর হবে ব্লাইন্ড স্কোর অর্থাৎ কোডিং করে, যেভাবে ইন্টারমিডিয়েটের খাতা দেখা হয় সেভাবে খাতা দেখে কোডিং করে কেন্দ্রীয়ভাবে একটা স্কোর করে দেওয়া হবে।

ভর্তি কীভাবে হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যেকে এখন যেভাবে ভর্তি করে একই প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেবে। এসএসসিতে যারা জিপিএ-৫ পায়নি তাদের আমরা নেবো না। তারপর আমরা বলে দেবো, কেউ কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে চাইলে পরীক্ষায় পদার্থ ও গণিতে শতভাগ নম্বর পেতে হবে। আমাদের এখন যে প্রক্রিয়ায় ভর্তি হয়, সেভাবেই হবে, শুধু পরীক্ষার স্কোরটা নেওয়া হবে ওই গুচ্ছ পরীক্ষার স্কোর হিসেবে। অন্যান্য যত রকমের শর্ত আছে সব শর্তই আরোপ করা যাবে। জবি যদি মনে করে, ৪.৫-এর নিচে কলা অনুষদে আমরা কাউকে ভর্তি করবো না, সেটাই হবে।

সারাদেশে বিভিন্ন কেন্দ্রে হওয়া পরীক্ষার মান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন আসছে। সবখানে একই মান অনুযায়ী পরীক্ষা নাও হতে পারে। দেখা যাচ্ছে বুয়েট ও জগন্নাথে কড়াকড়ি পরীক্ষা হলো, কিন্তু মফস্বলের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বেশি পাস করে ফেললো। মঞ্জুরি কমিশনের বৈঠকে এ আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদি কোথাও মনে হয় অস্বাভাবিক স্কোর, তো সেগুলো দেখার জন্য সায়েন্টিফিক ডিভাইস ব্যবহার করা হবে।

প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের অনেক পদ্ধতি আছে। অনেক সেট করা যাবে, উপাচার্য ছাড়া কেউ জানবেন না কোন সেটে পরীক্ষা হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সফল হয়েছে। আমরা এমসিকিউ তুলে দিয়ে লিখিত পরীক্ষা নিচ্ছি। গুচ্ছ প্রক্রিয়াতেও আমরা লিখিত পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছি।

সব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাঙ্ক্ষিত মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাবে কি—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি সব বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ছাত্র পাবে, ছাত্ররা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পাবে। ভারতে এ ধরনের পদ্ধতি ১০ বছর ধরে চর্চা হচ্ছে। জিআরই পরীক্ষা দিয়ে আমাদের ছাত্ররা সারাবিশ্বে ভর্তি হচ্ছে। একই জিনিস এটা, শুধু প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে, পরিশ্রম হবে, কিছু সমস্যা তো থাকবেই।

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় আগ্রহী না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সবাই এলে জিনিসটা সফল হতো। পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়, বড় বিশ্ববিদ্যালয় যদি না আসে, তাহলে একই ভোগান্তি থেকে যাবে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *