শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উর্গবাদী সংগঠন দেশে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: ওবায়দুল কাদের ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি শীর্ষ ২৫ ব্যাংকে: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে: হাইকোর্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে থেকে কূটনীতিকের সংখ্যা কমাল  দেশ চলছে শতভাগ ব্যক্তিতন্ত্রের ওপর: গয়েশ্বর চন্দ্র ‘টেক্সট ফর ইউ’ শিরোনামে হলিউড সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘বিশ্বসুন্দরী’  প্রভাস তিন সিনেমায় নিচ্ছেন ৩০০ কোটি! রাজধানীতে ভিপি নূরের নেতৃত্বে মশাল মিছিল বার্সা উড়ছে মেসিকে ছাড়াই  প্রথম জয় বেক্সিমকো ঢাকার  নিরাময়ের বদলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে চলে নির্যাতন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ বাংলাদেশের প্রতি কি.মি. রাস্তা নির্মাণে সিলেট এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকা যাচ্ছে তিন সংকটে শনিবার থেকে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হচ্ছে করোনা: বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার জলবায়ু পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কর্ম-পরিকল্পনার আহ্বান সায়মা ওয়াজেদের বিশ্ব এখন করোনার ভ্যাকসিন যুগে  মানসম্মত জীবনের সব আয়োজনে আধুনিক শহর এখন ভাসানচর

লক্ষ্মীপুরের পর্যটন কেন্দ্র: সরগরম দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাগর দীঘি

মো. কাউছার:

লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রাচীন জমিদার বাড়ি দালাল বাজার জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িকে ঘিরে মানুষের অনেক কৌতুহল। রাজ গেইট, জমিদার প্রাসাদ, অন্দর মহল, অন্দর পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট এ সবই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পাসেই আছে খোয়া সাগর দীঘি।

 

এই দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাগর দীঘির পাড় এলাকা এখন খুবই দৃষ্টিনন্দন। দিন দিন দর্শনার্থী মুখর হচ্ছে। এ যেন এক প্রকৃতির হাতছানি। দেখলে নয়ন প্রাণ জুড়ে যায়। অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরা অনন্য দৃশ্য।

ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাগর দীঘিকে সাধারণ মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। উন্মুক্ত করছে পর্যটন কেন্দ্র ও বিনোদনের জায়গা। যে যাই বলুক না কেন, একটুখানি মনের অতৃপ্ত শান্তির স্বাদ নেয়ার জন্য এ ব্যবস্থা করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। এই উদ্যোগ জেলা বাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে চিরনন্দিত হয়ে থাকবে। ভালো কাজে বাধা আসে। সেই বাধাকে উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসক দর্শনীয় স্থান হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ নিয়ে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

 

গত ৩ বছর আগেও এই জমিদার বাড়ি ও দীঘির পাড়ের চেহারাটা ছিল অন্যরকম। ঝোপ জঙ্গল, সাপ আর জীবজšু‘র বসবাস ছিল। ভয়ে কোন মানুষ যাওয়া-আশা করতো না। দীর্ঘকাল ধরে পড়ে ছিল অবহেলায়। এর আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা কোর্ট-কাচারির ভয়ে পিছু হটে গেছেন। কিšু‘ এবারে যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি ভয় কে জয় করে সততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর বাসীর প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাবেন এবং এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

 

জমিদার বাড়ি ও দীঘির প্রথম বরাদ্ধ হওয়ার পর ঝোপ জঙ্গল পরিস্কার করে চলাফেরা করার জন্য সড়ক ও বসার জন্য কয়েকটি ঘর নির্মাণ করা হয়। এছাড়া খোয়া সাগর দীঘির উত্তর ও পশ্চিম পাড় বাঁধাই করে কিছু অংশ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেন। এরপর ধাপে ধাপে বসার জায়গাসহ বড় ১০টি ছাতা তৈরি করে দেয়া হয়।

প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। তাদের কাছে আমরা বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছি। আমার পক্ষ থেকে আগ্রহের কমতি নেই। আমি যে কয়দিন আছি, এর মধ্যে এ কাজটি সম্পন্ন করতে চাই। আপাতত কাজ করার জন্য নতুন কোন বরাদ্ধ নেই।

 

স্থানীয় তহশিলদার আব্দুর শহিদ জানান, এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য জমিদার বাড়ির ভেতরেই পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। জেলা প্রশাসক প্রায়ই আসেন খোজ খবর নিতে। দর্শনার্থী সমাগমও বেড়েছে অনেক।
দালাল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, এই জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থী আশা যাওয়ার পর থেকে আমাদের ব্যবসার উন্নতি হয়েছে। কেনাবেচা পূর্বের চেয়েও অনেক বেড়েছে।

 

ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র দাস বলেন, দর্শনার্থী আগের চেয়ে অনেক গুন বেড়েছে। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়েছি। জমিদার বাড়ির ভেতরের বড় পুকুরে নৌকা ও পাশে ছোট বাচ্চাদের জন্য পার্ক ব্যবস্থা করলে ভালো হত।

দর্শনার্থী শিশির জানান, দীঘির পাড়ে অনেক দর্শনার্থী সন্ধাবেলাও আসেন, এই সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা উচিত।

দর্শনার্থী সুমন বলেন, দিঘীর পাড়ে আসলে ভালো লাগে। তাই বার বার আসি। এখানে হাটার জায়গা তৈরি হয়েছে। তবে এর পরিধি আরো বাড়ানো উচিত। ব্যায়ামেরও সুযোগ থাকলে ভালো হয়।

অপর দর্শনার্থী হাফিজ বলেন, মানুষের জীবনে অনেক দুঃখ কষ্ট বেদনা থাকে। এখানে আসলে কিছু সময়ের জন্য হলেও মনটা হালকা হয়ে যায়। এই টুকু শান্তনার জন্য বার বার এখানে ছুটে আসি।

 

এলাকাবাসীরা জানায়, ইতিপূর্বে যারা জোরপূর্বক জমিদার বাড়ি ও দীঘি দখল করেছে, তাদেও ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি, বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ দাখিল করছে আর প্রশাসনকে হয়রানি করছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার সরকারি-বেসরকারি পদে যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি করার জন্য আসেন, তাদের বিনোদনের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। সুযোগ পেলে তারাও এখানে কিছু সময় কাটায়।

 

জানা যায়, লক্ষ্মীনারায়ন নামে জনৈক ব্যক্তি কাপড়ের ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে দালাল বাজার আসেন। তার পুত্র ব্রজবল্লভ স্বীয় দক্ষতা গুণে ব্যবসার প্রসার ঘটান। ব্রজবল্লভ পুত্র গৌরকিশোর কলিকাতায় লেখাপড়ার সুবাদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সহচর্যে আসেন এবং জমিদারী খরিদ করেন। গৌরকিশোর ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা উপাধী লাভ করে। গৌরকিশোর রায় ও রাণী লক্ষ্মী প্রিয়া ছিলেন নিঃসন্তান। তারা ঢাকার বিক্রমপুর থেকে গোবিন্দকিশোরকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করে। গোবিন্দ কিশোর পুত্র নলীনি কিশোর রায় চৌধুরী তাদের জমিদারীর খাজনা আদায়, তদারকী ও প্রসারে দক্ষতার পরিচয় দেয়। দালাল বাজার এন.কে উচ্চ বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয়, ঠাকুর মন্দির এ পরিবারের অবদান। জমিদার বাড়ির প্রাচীর, অন্দর মহল, নির্মাণ সামগ্রী বিশেষ করে কয়েকটন ওজনের লোহার ভীম, বিরাটাকার লোহার সিন্দুক, নৃত্যশালা, বহিরাঙ্গণ দেখা মিলে।

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *