মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিদ্যা ফিরিয়েছেন মন্ত্রীর আমন্ত্রণ, সিনেমার শুটিং গেলো আটকে বাংলাদেশে ম্যারাডোনাকে নিয়ে গান আমিরের সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় আফ্রিদি শাসালেন আফগান পেসারকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারত থেকে সরে যেতে পারে  ইথিওপিয়ার টিগ্রেতে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে মৃত কয়েকশ মানুষ কৃষক আন্দোলনের কাছে মোদির নতিস্বীকার  মায়ের লাশ দেখার পর আবারও কারাগারে সাবেক কাউন্সিলর ইরফান কোনোভাবেই বেপরোয়া গাড়ি চালানো যাবে না: কাদের জোনায়েদ সাকি-নুর জোট গড়ছেন, সঙ্গে আছেন জাফরুল্লাহ দেশের তৃতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপিত হবে ৭০০ কোটি টাকায় চলতি বছর জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ ইন্টারপোল পি কে হালদারের সব মামলার নথি চেয়েছে করোনাভাইরাস : বিশ্বে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৬ কোটি ৩৫ লাখ সরকারি ব্যাংক টার্গেটের অর্ধেকও খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ  গৌরব ও বিজয়ের মাস শুরু আপিল বিভাগের রায়: যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিলে সাজা দেবে সরকার দুদকের পরামর্শে স্বাস্থ্যের দুর্নীতি বন্ধে ১৬ সুপারিশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ‘মানতা’ উপজাতির অন্ধকার জীবন

সাফল্যের অপ্রতিরোধ্য যাত্রায় বাংলাদেশ

মুর্শিদা খাতুন:

যুদ্ধবিধস্ত মানচিত্র থেকে সাফল্যের অপ্রতিরোধ্য চিত্রপটের এক অনবদ্য নাম বাংলাদেশ। তিল থেকে তিলত্তমা হয়ে উঠতে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নির্মিত বাংলাদেশের আজকের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ধাবিত হতে সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। ৪৯ বছর আগের অবকাঠামোবিহীন সেই সদ্যজাত জাতিকে বিশ্বের বুকে পরিচিতি এনে দিতে অর্জিত সাফল্যের পরিসংখ্যান ও অপ্রতুল নয়।

পর্যায়ক্রমে স্বল্পন্নোত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদন্ডেই উন্নীত হয়েছে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদন্ড অনুযায়ী এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ২০৬৪ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম, যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ। বর্তমান সরকারের রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের এটি একটি বড় অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষাখাতে অর্জন:

বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন হলো শিক্ষা খাতের সফলতা। এই অর্জন এখন সারা বিশ্বে স্বীকৃত। আফ্রিকা বা অনগ্রসর দেশগুলো যখন শিক্ষায় ছেলেমেয়ের সমতা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই স্তরেই ছেলেমেয়ের সেই সমতা অর্জন করে ফেলেছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রাথমিকে ছাত্রীদের হার প্রায় ৫১ শতাংশ, যা মাধ্যমিকে প্রায় ৫৪ শতাংশ। এটি বিশ্বে নজর কেড়েছে। আশার বিষয়, এই অর্জনের ধারা অব্যাহত আছে। এখন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।
লক্ষণীয় হলো, প্রাথমিকের পর মাধ্যমিকেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।

ঝরে পড়াও কমছে, যদিও মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার এখনো উদ্বেগজনক। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিকে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার ৩৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে আশার কথা, হারটি কমছে। প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হারও হ্রাস পেয়ে ১৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১০ সালেও ছিল ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি অবশ্যই দৃশ্যমান অগ্রগতি। বাল্যবিবাহের হার ও গত চার পাঁচ বছরে কমে এসেছে, যদিও এই হ্রাসের হার অত্যন্ত ধীর।

স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি পেয়েছি। যদিও সেই নীতি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এখনো ধীর।
শিক্ষানীতির দিকনির্দেশনার ভিত্তি ছিল আমাদের সংবিধানের মূলমন্ত্রগুলো। সেগুলো সামনে রেখে দুটি বড় দিকনির্দেশনার একটি হলো শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের লাগাম টানা এবং দ্বিতীয়ত, সংবিধানের আলোকে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে হবে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অনুযায়ী বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছে এবং সেগুলো অর্জনও করতে সর্বাত্মক প্রয়াস নিয়েছে। এর অনেকগুলো বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ এ ও আছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ১২ বছর পর্যন্ত ন্যূনতম শিক্ষা দেয়ার বিষয়ে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা। মানুষকে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন নয়, জীবন-জীবিকার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হয়। সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক প্রয়াসের পরও এখন পর্যন্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় প্রায় ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরিতে নিয়ে আসা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে নারীর জন্য ৬০ শতাংশ কোটা থাকলেও আমরা সেই সীমারেখা বেশ আগে অতিক্রম করেছি। তবে মাধ্যমিকে শিক্ষক হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ এখনো আশানুরূপ নয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় এই হার নগণ্য। পেশাগত শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে।
শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র দুই থেকে আড়াই শতাংশের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষার বাজেট ঘুরপাক খাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নিম্নতম! ফলে সরকারের নীতিমালা, এমনকি মহামান্য আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের লাগাম টানা যাচ্ছে না।

শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও মূল্যবোধেরও একটি বিষয় আছে। এগুলো অর্জিত না হলে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। তার সঙ্গে নানা ধরনের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের উদ্ভব হবে। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার জন্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই যে কাজ করে না, তা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।

স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য:

স্বাস্থ্যসেবা যেকোন জাতি ও দেশের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাত। বর্তমান সরকার এজন্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত কে উন্নত করতে নানা ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১”। তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩১২টি(২) উপজেলা হাসপাতালকে উন্নীত করা হয়েছে ৫০ শয্যায়। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপতালগুলোতে ২ হাজার শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার এবং জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ১২টি(৪) মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজারেও বেশি জনশক্তি। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ১২টি(৪) মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজারেও বেশি জনশক্তি।

নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারী ও শিশুর উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ সমগ্র বিশ্বে রোল মডেল হয়ে উঠেছে। নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১”। “জাতীয় শিশু নীতি-২০১১” প্রণয়নের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। প্রযুক্তি জগতে নারীদের প্রবেশকে সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের মতো ইউনিয়ন ভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও।

পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশ। আর এই শিল্পের সিংহভাগ কর্মী হচ্ছে নারী। ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়নে ও নারীর ক্ষমতায়নে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। আর ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৮০% এর উপর নারী। বাংলাদেশ সরকার নানাভাবে নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে।

দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দুঃস্থ্, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভূষিত করা হয়েছে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ এওয়ার্ডে। সূত্রঃ মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম অন ভায়োলেন্স এগেইনস্ট ওমেন।

প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নয়ন:

বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে আছে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৬৮টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লক্ষেরও অধিক শ্রমিক কর্মরত আছে। বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ স্থাপন করেছে অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বল্প সুদে অভিবাসন ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক স্থাপন করে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে এর শাখা স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু জনগণকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণকেও এ সেবা গ্রহণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে হয়রানি ছাড়াই স্বল্প ব্যয়ে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোতে শ্রমিকগণ যেতে পেরেছে।

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অবদান:

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ হয়েছে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত।১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যোগদানের পর এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশের ৬৪ শান্তি মিশনে খ্যাতি ও সফলতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বিশ্ব শান্তি অন্বেষণে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ১৫৩ জন শান্তিরক্ষী প্রাণ দিয়েছেন। এ যাবৎকালে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বাগ্রে।

মন্দা মোকাবেলায় দক্ষতা:

মন্দার প্রকোপে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত ছিল বাংলাদেশ তখন বিভিন্ন উপয্ক্তু প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে মন্দা মোকাবেলায় সক্ষমই শুধু হয়নি, জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ৬ শতাংশের বেশি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথ ধারার বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। ঋণ পরিশোধে সক্ষমতার মানদণ্ডে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সমকক্ষতা অর্জিত হয়েছে।

শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সাফল্য:

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পাশাপাশি প্রসার ঘটেছে আবাসন, জাহাজ, ঔষুধ, ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য শিল্পের। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যোগ হয়েছে জাহাজ, ঔষুধ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী। বাংলাদেশের আইটি শিল্প বহির্বিশ্বে অভূতপূর্ব সুনাম কুড়িয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন:

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। দেশের সবক’টি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি ছাড়িয়েছে এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৯ কোটি ছাড়িয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ৪-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

পদ্মাসেতু প্রকল্প:

পদ্মা সেতুটি প্রধানত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সমগ্র দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের নিমিত্তে নির্মিত হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ উন্নয়ন কর্মকান্ড রাজধানী থেকে পরিচালিত হয় কিন্তু এ উন্নয়নের সুবিধাগুলো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছতে পদ্মা একটি বড় বাধা। সেতুটি নির্মিত হলে দেশের কেন্দ্রীয় সুবিধা সমূহ এবং উক্ত এলাকাটির সম্ভাব্য উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ।

বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ বা কমপক্ষে তিন কোটি মানুষ সরাসরি এই সেতুর মাধ্যমে উপকৃত হবে। এতে বলা হয়, এই সেতুর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য সমৃদ্ধ হবে, পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচন হবে এবং উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি গতি ত্বরান্বিত হবে।
আরেক সমীক্ষায় এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) নির্মানের ফলে দেশের আঞ্চলিক ও জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে লক্ষনীয় অগ্রগতি হবে।
এই সেতু চালু হলে মানুষ ও পণ্য পরিবহনের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, যানবাহন রক্ষনাবেক্ষন, জ্বালানী ও আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে।

এডিবি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সেতুর মাধ্যমে শিল্পায়ন ও বানিজ্যিক কর্মকাণ্ড প্রসারের লক্ষ্যে পুঁজির প্রবাহ বাড়বে, পাশাপাশি স্থানীয় জনগনের জন্য অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এছাড়াও বর্তমান সরকারের দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃষি খাত, বিদ্যুৎ খাত, ভূমি ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র বিমোচনসহ নানান খাতে উন্নয়ন দিনদিন ত্বরাণিত হচ্ছে।

 

 

 

মুক্তকন্ঠ২৪

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *