মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিদ্যা ফিরিয়েছেন মন্ত্রীর আমন্ত্রণ, সিনেমার শুটিং গেলো আটকে বাংলাদেশে ম্যারাডোনাকে নিয়ে গান আমিরের সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় আফ্রিদি শাসালেন আফগান পেসারকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারত থেকে সরে যেতে পারে  ইথিওপিয়ার টিগ্রেতে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে মৃত কয়েকশ মানুষ কৃষক আন্দোলনের কাছে মোদির নতিস্বীকার  মায়ের লাশ দেখার পর আবারও কারাগারে সাবেক কাউন্সিলর ইরফান কোনোভাবেই বেপরোয়া গাড়ি চালানো যাবে না: কাদের জোনায়েদ সাকি-নুর জোট গড়ছেন, সঙ্গে আছেন জাফরুল্লাহ দেশের তৃতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপিত হবে ৭০০ কোটি টাকায় চলতি বছর জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ ইন্টারপোল পি কে হালদারের সব মামলার নথি চেয়েছে করোনাভাইরাস : বিশ্বে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৬ কোটি ৩৫ লাখ সরকারি ব্যাংক টার্গেটের অর্ধেকও খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ  গৌরব ও বিজয়ের মাস শুরু আপিল বিভাগের রায়: যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিলে সাজা দেবে সরকার দুদকের পরামর্শে স্বাস্থ্যের দুর্নীতি বন্ধে ১৬ সুপারিশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ‘মানতা’ উপজাতির অন্ধকার জীবন

হাজী সেলিমের ৭ প্রতিষ্ঠান চলছে নবায়ন ছাড়াই 

মুক্তকণ্ঠ২৪ ডেস্ক:

সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিম নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নদী এবং নদীর তীরভূমি ব্যবহারের লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই।সেখানে তার মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের দুটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, একটি ডকইয়ার্ড, একটি পাথর ব্যবসাসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম চলছে নির্বিঘ্নে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নদীর তীরের শত শত শতাংশ জমি। বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে।

অথচ এই আটটি প্রতিষ্ঠানের ৬টিরই লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হয়েছে। বাকি দুটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে চলতি বছরের জুনে। দীর্ঘদিন আগে মেয়াদ শেষ হলেও সাত প্রতিষ্ঠানের নদী বা তীরভূমি ব্যবহারে অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ভরাট করে পাথর ব্যবসা করায় একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য।

সূত্র জানায়, নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগেই তা নবায়ন করার জন্য আবেদনের বিধান রয়েছে, যা লাইসেন্সে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওই বিধান লঙ্ঘন করে আসছে মদিনা গ্রুপ। তবুও রহস্যজনক কারণে নদী ও তীরভূমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আসছে বিআইডব্লিউটিএ। শুধু তা-ই নয়, এর আগেও মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর পর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আরোপ করা হয়নি কোনো দণ্ড।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক গণমাধ্যমকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের মেয়াদ নবায়নের জন্য আবেদন করতে হয়। মদিনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো একইভাবে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করার কথা ছিল। কিন্তু তারা যদি এখনও নবায়নের আবেদন না করে থাকে, তাহলে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের আওতাধীন এলাকায় লাইসেন্স নিয়ে আটটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে মদিনা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-নারায়ণগঞ্জ জেলার পাগলা মৌজায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এমটিসি সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, একই জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাটে মদিনা সিমেন্ট লিমিটেড ও মদিনা মেরিটাইম নামের ডকইয়ার্ড।

এছাড়া রয়েছে চারটি তেলবাহী জাহাজ মদিনা পেট্রোলিয়াম ওয়ান, মদিনা-৪, মদিনা-৫ ও বেগম সালেহা-২। এ সাতটি প্রতিষ্ঠানেরই নদী ও নদীর তীরভূমি ব্যবহারের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে রয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঝাউচরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মদিনা মেরিটাইমের নামে পাথর ব্যবসার প্রতিষ্ঠান। নদী ভরাটের অভিযোগে এ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তীরভূমি ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক। ‘নদীবন্দরসমূহের তীরভূমি ও জেটি লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়ন নীতিমালা’ অনুযায়ী লাইসেন্স দেয়া হয়। তীরভূমি ব্যবহার ও পণ্য পরিবহনের ওজন হিসাব করে নির্দিষ্ট হার অনুযায়ী শুল্ক পরিশোধের বিধান রয়েছে। এরপরই পরবর্তী বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। কিন্তু হাজী মোহাম্মদ সেলিম যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করেননি, সেগুলো থেকে ওই সময়ের শুল্কও আদায় হয়নি।

নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় নদীর ২৫৯ শতাংশ তীরভূমি ব্যবহার করছে মদিনা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। নদীর পাড়ে রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের বিশাল আকারের পাকা জেটি, বার্জ লোডার পাইপ, ভাসমান পল্টুন, আরসিসি ওয়াল, আধা পাকা স্থাপনা, স্পাডসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

অথচ এ তীরভূমি ব্যবহার ও পণ্য লোড-আনলোড করার লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে। এ হিসাবে এক বছর চার মাস ধরে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তা-ই নয়, সর্বশেষ নবায়নের ক্ষেত্রেও নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নীতিমালার ৮(চ) অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের আগে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করার বিধান রয়েছে।

নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী বছরের সম্ভাব্য পরিমাণ শুল্ক আগাম জমা দেয়ার শর্তে ওই লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম রয়েছে। অথচ এ কোম্পানির ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আগাম নবায়নের নিয়ম থাকলেও তা মানেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আরও দেখা গেছে, একইভাবে নারায়ণগঞ্জের পাগলায় রয়েছে আরেকটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। এমটিসি সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ নামের এ প্রতিষ্ঠানেরও মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ৩০ জুন। সেটি নবায়ন করা হয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর পর। অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন। এ প্রতিষ্ঠানটি নদীর তীরের ১০ শতাংশ জমি ব্যবহার করছে। সেখানে রয়েছে পাকা জেটি, কাচা স্থাপনা, কনভেয়ার বেল্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. মাসুদ কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা নবায়নের আবেদন করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া নদীতে অবস্থান করে বিভিন্ন জাহাজে তেল সরবরাহ করছে মদিনা গ্রুপের চারটি ট্যাংকার জাহাজ। এর মধ্যে ওটি মদিনা-১ ট্যাংকারের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর, মদিনা-৪ জাহাজের মেয়াদ ৩০ জুন ও মদিনা-৫ জাহাজের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হয়েছে। একইভাবে বেগম সালেহা-২ জাহাজ ও নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে মদিনা মেরিটাইম ডকইয়ার্ডের লাইসেন্সেরও মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে মদিনা গ্রুপ।

 

 

 

মুক্তকন্ঠ২৪

নিয়মিত সকল সংবাদ পেতে মুক্তকন্ঠ২৪.কম এর ফেইসবুকে যুক্ত থাকুন

শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *