সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

ইউক্রেনে অভিযানের মধ্যেই বিজয় দিবসের প্রস্তুতি রাশিয়ার

ইউক্রেনের খারকিভে পশ্চিমাদের দেয়া অস্ত্রের চালান ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। এছাড়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এদিকে, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাশিয়ায় চলছে প্যারেডের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

৯ই মে রাশিয়ার বিজয় দিবস, তাই সতর্ক ইউক্রেন। লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে জেলেনেস্কি সরকার।

এমন পরিস্থিতিতেই খারকিভে পশ্চিমা অস্ত্রের বড় একটি চালান ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য এসব অস্ত্র এসেছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে– এমনটাই বলছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া, লুহানস্কের বিলোহোরিভকা গ্রামের একটি আশ্রয়কেন্দ্র বোমা হামলা চালিয়েছে রুশ বিমান বাহিনী। এ হামলা অনেকে নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লুহানস্কের গভর্নর জানান হামলার সময় স্কুলটিতে আশ্রয় নিয়েছিলো অন্তত ৯০ জন।

এছাড়া, বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাল্টাপাল্টি দাবি করেছে মস্কো ও কিয়েভ। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনে প্রতিরোধ ঠেকাতে সেতু উড়িয়ে দিতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী।

শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের যোদ্ধাদের কাছ থেকে মারিউপোলের ইস্পাত কারখানার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। ইউক্রেন জানিয়েছে সেখানে অবরুদ্ধ বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ৭৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে চলছে প্যারেডের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

বিজয়ের ৭৭ তম বার্ষিকী উপলক্ষে, হাজার হাজার রুশ সৈন্য মস্কোর রেড স্কোয়ারে ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সহ মিছিল করবে। একটি দ্রুত বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী সত্ত্বেও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের তৃতীয় মাসে সোমবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই কুচকাওয়াজ কার্যত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল এবং সামরিক শক্তির প্রদর্শন হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গত দুই দশকের ক্ষমতায় থাকার জানান দিচ্ছিল। প্রতি বছরের মতো এবারও কুচকাওয়াজে ভাষণ দেবেন পুতিন। কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেছেন যে, তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ, অথবা সারা দেশে সমাবেশের ঘোষণা দিতে পারেন। অবশ্য ক্রেমলিন এ ধরণের বক্তব্যকে ‘ননসেন্স’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর থেকেই রাশিয়া বলছে যে, তারা দেশটিকে “নাৎসিমুক্ত” করার জন্য একটি “বিশেষ সামরিক অভিযান” চালাচ্ছে। নাৎসিমুক্ত কথাটি সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়া চালু করলো। স্মরণযোগ্য, রাশিয়া নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ২০ মিলিয়ন মানুষ হারিয়েছিল।

রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ৭৭টি বিমান ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে, যার মধ্যে বিরল আইএল-৮০ ডুমসডে প্লেন রয়েছে যেগুলি পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ক্রেমলিন জানিয়েছে, কুচকাওয়াজে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো বিদেশি নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এছাড়াও প্রতি বছরের ৯ মে দেশ জুড়ে কয়েক ডজন নগরীতে ছোট পরিসরে প্যারেড হয় এবং তথাকথিত “ইমরটাল রেজিমেন্ট” মিছিল হয়, যাতে প্রবীন সৈনিক অথবা যুদ্ধে মারা যাওয়া সৈনিক পরিবারের সদস্যদের ছবি বহন করা লোকজন অংশগ্রহণ করে। এই বছর, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ইউক্রেন যুদ্ধে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ছবি আনতেও উৎসাহিত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.