May 19, 2022, 5:41 am

চাঁদের মাটিতে গাছ জন্মাতে সফল হল পৃথিবীবাসী

চন্দ্র জয়ের অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের মাটিতে গাছ জন্মাতে সফল হল পৃথিবীবাসী। অর্ধশত বছর আগে অ্যাপোলো অভিযানের সময়ে চাঁদ আনা রিগোলিথ নামের চাঁদের মাটির নমুনা পরীক্ষাগারে ব্যবহার না-করে রাখা হয়েছিল ভবিষ্যতের জন্য। বিজ্ঞানের আরও উন্নতির পর পরীক্ষা চালানোর উদ্দ্যেশ্যে রাখা সেই মাটিতেই এবার জন্ম নিল সবুজ প্রাণ।

১৯৭২ সালের পর আবারও শুরু হয়েছে চন্দ্র অভিযানের তোড়জোড়। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহে মানুষ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চাঁদের দেশে লুনার স্টেশন তৈরীর পরিকল্পনা করছে চিন ও রাশিয়াও।

তবে এবার চাঁদে গিয়ে দীর্ঘসময় থাকতে হলেও সাথে খাবারের চিন্তা থেকে কিছুটা বেঁচে যেতে পারেন মহাকাশচারীরা। কারণ চাঁদের মাটিতে সবুজ গাছের প্রাণ সঞ্চার করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। জীবনধারণের চাহিদা মেটাতে চাঁদের মাটিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া গবেষণা দেখেছে সাফল্য।

পৃথিবীতে আনা চাঁদের মাটিতে গবেষণাগারে এই প্রথম সবুজ প্রাণের সঞ্চার ঘটালেন ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। নাসা জানিয়েছে, এই মাটিতে তেমন পুষ্টিগুণ নেই। তবে তারই মধ্যে জন্ম নেয়া অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা গাছের জীবনীশক্তি খুব বেশি। গাছটিকে আফ্রিকা ও ইউরেশিয়া অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। ব্রকোলি, ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস জাতের গাছ এটি।

গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একজন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার সায়েন্সের (আইএফএএস) অধ্যাপক রব ফেরল। সঙ্গে ছিলেন আইএফএএসের আরেক অধ্যাপক অ্যানা লিসা পলসহ কয়েকজন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কাছে সংরক্ষিত চাঁদের মাটি পেতে আবেদন করেন তারা। গত শতকে নাসার অ্যাপোলো ১১, ১২ ও ১৭ অভিযানের সময় চাঁদ থেকে ওই মাটি সংগ্রহ করা হয়।

চাঁদের মাটি পেতে গবেষকরা নাসার কাছে আবেদন করেছিলেন ১১ বছর আগে। অবশেষে বছর দেড়েক আগে মাটি দিতে রাজি হয় সংস্থাটি। তা-ও মাত্র ১২ গ্রাম মাটি পাঠানো হয়। অল্প এই মাটি নিয়েই কাজে লেগে পড়েন গবেষকরা। তাতে মেশানো হয় পানি আর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এর পর সেই মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয় ‘থ্যাল ক্রেস’ নামের একটি গাছের বীজ। ছোট আকৃতির এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘আরাবিডোপসিস থালিয়ানা।’ প্রায় সব কটি বীজ থেকে চারা বের হয়। তবে জন্ম নেওয়া চারাগাছগুলোর কয়েকটি আকারে ছোট, আর বেড়ে উঠতে অন্যগুলোর চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে।

প্রতিকূল পরিবেশে চাঁদের মাটিতে পৃথিবীর মত এত ভালো ফলন না দিলেও এই ফলাফলেই খুশি বিজ্ঞানীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.