রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

রিয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায় লিভারপুল

২০১৮ সালের ফাইনালে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজয়ের বেদনা এখনো বইয়ে বেড়াচ্ছে জার্গেন ক্লাপের লিভারপুল। আগামীকাল শনিবার ফের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। ইতোমধ্যে ১৩ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয় করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ফিরতি মোকাবেলায় এবার লিভারপুলের লক্ষ্য আগের হারের প্রতিশোধ নেয়া।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বিগত ৫ মৌসুমে এটি হচ্ছে লিভারপুলের তৃতীয় ফাইনাল। কিয়েভে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩-১ গোলে হারের এক বছর পর নিজ দেশের প্রিমিয়ার লীগ প্রতিপক্ষ টটেনহ্যাম হটস্পার্সকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হয় লিভারপুল। স্তাদে ডি ফ্রান্সে আসন্ন ফাইনালেও কিছুটা ফেভারিট লিভারপুল। এটি হচ্ছে তাদের জন্য সপ্তম বারের মতো ইউরোপীয় সেরা হবার সুযোগ।
অধিকাংশ সময় শিরোপা জয় করা রিয়ালের বিপক্ষে জয়লাভ করতে পারলে শিরোপা জয়ের দিক থেকে এসি মিলানের সহাবস্থানে পৌঁছে যাবে ইংলিশ ক্লাব। শুধু তাই নয় এ্যানফিল্ডে ট্রেবল নিয়ে যাবারও সুযোগ পাবে ক্লাবটি। কারণ ইতোমধ্যে ইংলিশ লিগ কাপ ও এফ এ কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা।
লিভারপুলের লেফট ব্যাক এন্ডি রবার্টসন এই সপ্তাহে বলেছেন,‘ শিরোপা জয়ের চেয়ে ভালো অনুভুতি আর কিছুই হতে পারে না।’ দীর্ঘ সময় কোয়াড্রোপল জয় অধরাই রয়ে গেছে। যার অনেকটা কাছে এসেও শেষ মুহুর্তে বিরল সেই গৌরব থেকে বঞ্চিত হতে হলো লিভারপুলকে। কারণ শেষ দিন পর্যন্ত শিরোপা উত্তেজনা টিকিয়ে রাখা ক্লাবটি মাত্র এক পয়েন্টের জন্য শিরোপা হাতছাড়া করেছে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে।
ক্লপ বলেন,‘ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিততে না পারলেও এটি হবে অসাধারণ একটি মৌসুম। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা যুক্ত হলে এটি হবে দুর্দান্ত এক মৌসুম। কিয়েভে পরাজিত হবার পর থেকে স্মরনীয় কয়েকটি বছর পার করছে লিভারপুল। ইনজুরির কারণে প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়েন ক্লাবটির মিশরিয় সুপার স্টার মোহাম্মদ সালাহ। এরপর তাদের জন্য দু:স্বপ্ন বইয়ে আনেন লরিয়াস ক্যাসিয়াস। আর গ্যারেথ বেলের নৈপুন্য শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াল মাদ্রিদ।
এই মৌসুমে ৩১ গোল করা সালাহ বলেন,‘ আমি মনে করি এটি হবে প্রতিশোধের ম্যাচ। আলিসনকে দলভুক্ত করার পর ২০১৮ সালের তুলনায় অনেকটাই শক্তি সঞ্চার করেছে লিভারপুল। আর মধ্যমাঠে আলো ছড়াতে আছেন থিয়াগোা আলচানতারা ।
রিয়ালকে কাপ জয়ের আশা ছাড়তে হবে, এমন জল্পনা কল্পনা আক্ষরিক অর্থে এর আগে বহুবার ঘটেছে। নকআউট পর্বে লিভারপুল যখন একের পর এক হারিয়ে চলছিল ইন্টার মিলান, বেনফিকা ও ভিয়ারিয়ালকে, তখনই গ্রুপ পর্বে শেরিফ তিরাসপোলোর কাছে হেরে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর থেকে অবশ্য আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি স্প্যানিশ জায়ান্টদের। শেষ ষোলর ম্যাচে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে করিম বেনজেমার হ্যাটট্রিকে ভর করে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ মুহুর্তে গোল পরিশোধ করে চেলসিকে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে বাধ্য করে লিভারপুল। এবং যথারিতি বেনেজেমার কল্যানে ইংলিশ ক্লাবকে পরাজিত করে স্প্যানিশরা। ৩৪ বছর বয়সি বেনজেমা এই মৌসুমে এখনো পর্যন্ত আদায় করেছেন ৪৪টি গোল। তন্মধ্যে ইউরোপীয় আসরে ১৪টি এবং বাকী ২৭ গোল করেছেন স্প্যানিশ শিরোপাা জয়ের লড়াইয়ে। যার সুবাদে ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় যে বেনজেমা গুরুত্ব পাবে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। আর একটি মাত্র ম্যাচে যদি জয়লাভ করতে পারে তাহলে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে না পাওয়ার জ¦ালাও ভুলে যাবে রিয়াল সমর্থকরা।
শেষ নয় মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে রিয়াল। ২০১৪ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে এই দৌঁড় শুরু করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ওই সময়ও দলে ছিলেন বেনজেমা। কোচ হিসেবে আনচেলোত্তির প্রথম স্পেলে তার সঙ্গে ছিলেন লুকা মড্রিচও। প্রথম কোন কোচ হিসেবে চারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন ইতালির ওই কোচ। এর আগে এসি মিলানকে তিনি শিরোপা এনে দিয়েছিলেন ২০০৩ ও ২০০৭ সালে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.