বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০২ অপরাহ্ন

সারা দেশে দোকান ৫৪ লাখ, ভ্যাট দেয় ৪৫ হাজার

ছোট-বড় মিলিয়ে সারা দেশে দোকান আছে ৫৪ লাখ। এর মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে ৩ লাখ দোকানের। কিন্তু, ভ্যাট দেয় ৪৫ হাজার দোকান মালিক। গত অর্থবছরে সরকার মোট ভ্যাট আদায় করেছে ৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভ্যাট প্রদান সহজ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে নতুন চালু করা আইনের বাস্তবায়ন এখন অনেকটাই স্থবির। জটিলতা কমাতে আসন্ন বাজেটে পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন হলে হয়রানি কমার পাশাপাশি, রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

ভ্যাট ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে ২০১২ সালে প্রণয়ন করা ভ্যাট আইনটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে। যার আওতায় ভ্যাট আদায় বাড়াতে ইএফডি মেশিন সরবরাহ করে রাজস্ব বোর্ড। গত দুই বছরে সেই কার্যক্রমেও খুব একটা গতি নেই।

রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আব্দুল মান্নান শিকদার বলেন, ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস অর্থাৎ ইএফডি হলো ৪ হাজার ১৫২টি। আর সেলস ডাটা কন্ট্রোলার অর্থাৎ এসডিসি হলো ৪২৬টি। সর্বমোট ৪ হাজার ৫৭৮টি মেশিন আমরা বসিয়েছি।

সব দোকানে এই ইএফডি মেশিন বাসাতে না পারায়, বেড়েছে ব্যবসার জটিলতা। প্রত্যাশা অনুযায়ী ভ্যাট আইনের গতি না থাকার জন্য বিশ্লেষকরা ব্যবসায়ী ও রাজস্ব বোর্ড উভয়কেই দায়ী করছেন।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, এনবিআরের কাজ হচ্ছে এই মেশিনগুলো নিয়ে সবাই ব্যবহার করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা। ব্যবসায়ীদেরও উচিৎ তারা যেহেতু কাস্টমারের কাছ থেকে ভ্যাট নেন, তাই সেই ভ্যাট রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার দায়িত্বও তাদের। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ভ্যাট জমা দেয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের ওপরই নির্ভর করে।

তবে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়েই ভ্যাটটি সংগ্রহ করতে পারলে জটিলতা থাকে না। রাজস্ব বোর্ডের কাছে এই প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।

এফবিসিসিআইয়ের সদস্য এম ইউ গোলাম রসুল বলেন, এতো বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে এক সাথে মেশিনের সুবিধা দেয়া কঠিন। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, আমদানি পর্যায়ে পোর্ট থেকে ভ্যাট নিয়ে নিতে। আবার উৎপাদন পর্যায় থেকেই প্রয়োজনীয় ভ্যাট নিয়ে যেতে বলেছিলাম। মূল কথা হলো, রাজস্বটা পাওয়া। এটা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

এছাড়া, পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আদায় করলে ইএফডি মেশিন বাসানো সংক্রান্ত জটিলতাও থাকবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *